ইতিহাসে প্রথম বার বাংলাদেশ চ্যম্পিয়ন

খেলাধুলা
Spread the love


স্টাফ রিপোর্টার: ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। দেশের ক্রিকেটের প্রথম বিশ্বকাপের স্বাদ পাইয়ে দিয়েছে আকবর আলীর নেতৃত্বাধীন দল। ১মবারের মত ফাইনালে ওঠে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। পরতে পরতে রোমাঞ্চ জাগানো শ্বাসরুদ্ধকর ফাইনালে ডাকওয়ার্থ লুইস পদ্ধতিতে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ভারতকে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৩ উইকেটের ব্যবধানে।

দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে বৃষ্টির শঙ্কা উপেক্ষা করে নির্ধারিত সময়েই শুরু হয় খেলা। টস জিতে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন আকবর। শরিফুল ইসলাম ও তানজিম হাসান সাকিবের নিয়ন্ত্রিত বোলিং শুরুতেই চাপে ফেলে দেয় ভারতকে। দুই ওপেনার রানের ছন্দে ফিরতে বেশ খানিকটা সময় নেন। উদ্বোধনী জুটিতে দুজনে এনে দেন মাত্র ৯ রান।

৭ম ওভারে অভিষেক দাসের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন দিব্যানশ সাক্সেনা (২)। তবে তিলক ভার্মাকে নিয়ে দেখেশুনে খেলতে থাকেন যশস্বী জাসওয়াল। উইকেটে সেট হওয়ার পর বাড়িয়ে দেন রানের গতি। রকিবুল হাসানের শিকার হয়ে তিলক ৩৮ রান করে আউট হলেও জাসওয়াল পূর্ণ করেন অর্ধ-শতক।

১২১ বলের মোকাবেলায় ৮৮ রান করেন জাসওয়াল, হাঁকান ৮টি চার ও ১টি ছক্কা। ১১৪ রানে অধিনায়ক প্রিয়াম গার্গকে (৭) শরিফুল সাজঘরে ফেরালেও ধ্রুব জুরেলের সাথে সাবধানে খেলছিলেন জাসওয়াল। তবে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠা এই ওপেনারকে প্যাভিলিয়নের পথ দেখান শরিফুল, দলীয় ১৫৬ রানে। এতে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ চলে আসে বাংলাদেশের হাতে।
অভিষেক, সাকিব ও শরিফুলের বোলিং তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ভারত। শেষপর্যন্ত খেলতে পারেনি ৫০ ওভারও। ৪৭.২ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ফেলে ১৭৭ রানে। জাইসওয়াল ও তিলকের পর উইকেটরক্ষক জুরেল (২২) ছাড়া আর কারও রানই পায়নি দুই অঙ্কের দেখা।

বাংলাদেশের পক্ষে তিনটি উইকেট শিকার করেন এই ম্যাচে একাদশে ফেরা অভিষেক। এছাড়া শরিফুল ও সাকিব দুটি এবং রকিবুল একটি উইকেট শিকার করেন।
জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে বাংলাদেশকে ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান তামিম। উদ্বোধনী জুটিতে দুজন মিলে ৫০ রান যোগ করেন। কার্তিক ত্যাগি-সুশান্ত মিশ্রদের বল দেখেশুনে সামলালেও বাংলাদেশ খেই হারায় রবি বিষ্ণইর বলে। দলীয় ৫০ রানে তামিমকে (১৭) হারায় বাংলাদেশ। দলীয় ৬২ রানে সাজঘরে ফেরেন আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান মাহমুদুল হাসান জয়। একই সময়ে পেশিতে টান লাগলে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়েন ৪২ বলে ২৫ রান করে অপরাজিত ইমন।

বিষ্ণইয়ের পরের ওভারে দল হারায় তৌহিদ হৃদয়কে (০)। ক্রিজে থিতু হতে পারেননি শাহাদাত হোসেনও। ১ রান করে তিনিও বিষ্ণইয়ের শিকারে পরিণত হন। ৬৫ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বেশ চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ।
অধিনায়ক আকবর একপ্রান্ত আগলে রেখে সেই চাপ সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে শামিম হোসেন (৭) ও অভিষেক দাস (৫) বিলাসি শট খেলে উইকেট বিলিয়ে এলে ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ার শঙ্কা জাগে বাংলাদেশের। চোট কাটিয়ে এরপর মাঠে নামেন ইমন। আকবরকে নিয়ে তিনি কাঙ্ক্ষিত পথে ইট বিছিয়ে যান দারুণ দক্ষতায়।
তবে অর্ধ-শতকের কাছে গিয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাকেও। তার আগে ৭৯ বলে ৭ চারে করেন ৪৭ রান। নতুন ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসানকে নিয়ে তখন লড়াইটা শুধুই দলপতি আকবরের। সেই লড়াইয়ে ঠাণ্ডা মাথায় ভারতীয় বোলারদের সামলে দলীয় স্কোর নিয়ে যান ১৬৩ রানে। ৪১ ওভারের পর বৃষ্টি এলে বন্ধ হয়ে যায় খেলা। চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকানো আকবর তখন ৭৬ বলে ৪২ রান করে অপরাজিত। তার সঙ্গী ১৯ বলে ৩ রান করা রকিবুল।
খানিক পরই বৃষ্টি থামলে ৪৬ ওভারে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭০ রান। ৪৩ রানে অপরাজিত আকবরকে সাক্ষী রেখে রকিবুল হাসান ম্যাচজয়ী রানের মালিক হয়ে দলকে জেতান বিশ্বকাপ। ৭৭ বলে ৪৩ রান করে ম্যাচের নায়ক আকবর ও ২৫ বলে ৯ রান করে রকিবুল অপরাজিত থাকেন।
ভারতের পক্ষে রবি বিষ্ণই চারটি, সুশান্ত মিশ্র দুটি এবং যশস্বী জাইসওয়াল একটি উইকেট শিকার করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *